মোঃ হাসান আলী সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
চলতি মৌসুমে রাজশাহীর হিমাগার মালিকরা আলু সংরক্ষণে হঠাৎ দ্বিগুণ ভাড়া বাড়িয়ে ক্লোডস্টোরের সামনে ব্যানার সাটিয়ে দেয়। এমন অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক উপজেলার আলু চাষীরা প্রতিবাদ সভা করেন। চাষীদের আয়োজনে তানোর পৌর সদরস্থ গোল্লাপাড়া ফুটবল মাঠে রবিবার বিকেলে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলু চাষী ও পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক এম রায়হান আলী সঞ্চালনায়। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সদস্য, সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আলু চাষি আব্দুল মতিন, আহসান হাবিব, জালাল উদ্দিন ও সালাউদ্দিন হাজী। এছাড়াও মোহনপুর উপজেলার আলুচাষি মনিরুল ইসলাম, নাজিম হোসেন, মৌগাছির ইউনুস আলী, কেশরহাটের তোফায়েল আহম্মেদ, দৈল্যাবাড়ির মহসিন আলী, বায়ার আলু চাষি আনারুল ইসলাম ও বড়গাছীর ইমরান আলী ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন। সভা শেষে অংশ গ্রহণ কারী বিপুল সংখ্যক আলু চাষীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রহমান হিমাগার-২ এর গেট পর্যন্ত গিয়ে ব্যানার ছিড়ে ফেলে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসময় হিমাগারের ভিতরে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায় বলেও নিশ্চিত করেন কয়েকজন বিক্ষোভ কারী। কারন হিমাগার মালিক সমিতির নেতা ফজলুর রহমান। তবে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে নি। আতংকে পালিয়ে তারা বলেও দাবি চাষীদের। এতে বিপুল সংখ্যক আলু চাষি আর সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি বছর রাজশাহীর তানোরে ১৩ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা থাকলেও ২৭০ হেক্টর বেড়েছে। এবারে এতোসব আলুর ক্ষেত থেকে প্রায় ৪ লাখ আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস। এসব আলুর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ তানোরে ৬টি, মোহনপুরে ৭টি হিমাগার ছাড়াও পুরো রাজশাহীতে ৩৬টি হিমাগারে আলু রাখেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। এই মজুদ করা আলু সারা বছর বাজারে বিক্রি করা হয়। এজেলার চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।
কৃষকদের দাবি, গত মৌসুমে হিমাগারে আলু রাখার জন্য প্রতি কেজি দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ টাকা। এবারে দ্বিগুণ বাড়িয়ে তা ৮ টাকা কেজি করা হয়েছে। হিমাগার ভাড়া ৮ টাকা হওয়ায় আলুর দাম মৌসুমের শেষে অতিরিক্ত বাড়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তা ও চাষিরা। এদিকে বিদ্যুতের দাম না বাড়ার পরও প্রতি কেজি আলুতে সংরক্ষণ চার্জ ৪ টাকা বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটাকে মহা সিন্ডিকেট ও বর্তমান সরকার এক ধরনের বেকায়দায় ফেলতেই মালিকদের এমন হঠকারীতা বলেও মনে করছেন চাষীরা।
এবিষয়ে ক্লোড স্টোর কর্তৃপক্ষ বলেছেন, আলু রাখার দর নির্ধারণ করে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশন। দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে তারা বলেন, লেবার খরচ ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর গোল্লাপাড়া মাঠে প্রতিবাদ সভা করে নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত ভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। ওই সভায় ১০ জানুয়ারির ভাড়া কমানোর দাবি জানানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজিতে দ্বিগন টাকা ভাড়া বাড়লে এই চাপ ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। এই সুযোগে সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা আলুর দাম বাড়িয়ে দিবে। এবার বিদ্যুতের দাম বাড়েনি, অন্য কোন সমস্যাও নেই তারপরও হিমাগারে ভাড়া দ্বিগুন বাড়ানো ব্যাপারে উভয়পক্ষকে নিয়ে সমাধানে বসা হবে বলে জানান ইউএনও।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.